
আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় একদিনেই এক গৃহবধু নারী ও এক পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যা ও শনিবার (৪ জুলাই) সকালে পৃথক পৃথক স্থান থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন, আনোয়ারা উপজেলার ৪ নং বটতলী ইউনিয়নের পূর্ব বরৈয়া এলাকার গৃহবধূ উম্মে হাবিবা (২২) এবং সদর ইউনিয়নের ঘনপুকুরপাড় এলাকার জেলে জিকু সর্দ্দার (৩৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে পূর্ব বরৈয়া এলাকা থেকে উম্মে হাবিবার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি সায়েদ ইমরানের স্ত্রী ও এক কন্যাসন্তানের জননী ছিলেন। পরিবারের দাবি, পারিবারিক কলহের জেরে ওই গৃহবধূ ইঁদুর মারার বিষপান করেন। স্বজনেরা তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, শনিবার (৪ জুলাই) সকাল নয়টার দিকে আনোয়ারা সদর ইউনিয়নের ঘনপুকুরপাড় এলাকায় একটি গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় জেলে জিকু সর্দ্দারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। জিকু ওই এলাকার ভট্টাচার্য নিবাস কলোনির একটি ভাড়া বাসায় স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তান নিয়ে থাকতেন। তার বাড়ি একই উপজেলার বিলপুর হাঁড়িপাড়া এলাকায়।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, স্ত্রীর বোনের স্বামীর সঙ্গে আর্থিক লেনদেন নিয়ে জিকু সর্দ্দারের বিরোধ ছিল। সেই আর্থিক লেনদেনের জের ধরে তাকে হত্যা করা হতে পারে বলে অভিযোগ তাদের।
জিকুর স্ত্রীর ভাষ্যমতে, গত কয়েক দিন ধরে তিনি মানসিকভাবে বেশ হতাশায় ভুগছিলেন। পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের কথা জিকু স্ত্রীকে জানিয়েছিলেন এবং কিছু টাকা ব্যাংকে গচ্ছিত থাকার দাবি করেছিলেন। তবে তিনি সমস্যার কথা বিস্তারিত শেয়ার করতেন না।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, গৃহবধূর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। জেলে জিকু সর্দ্দারের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত চলছে। দুটি ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে