শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০১:২২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আনোয়ারায় আদালতের নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জায়গা জবর দখলের অভিযোগ আনোয়ারা সাংবাদিক সমিতি(আসাস)এর নতুন কার্যকরী কমিটি গঠিত হয়েছে। আনোয়ারা শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে বন্যার্ত অসহায় মানুষের মাঝে ত্রান বিতরন করেন। বন্যা কবলিত এলাকায় ত্রান বিতরন করলো আইপিএসপিজে বাংলাদেশ (IPSPJ BANGLADESH) আনোয়ারায় সংগঠিত ডাকাতির ঘটনায় আন্তজেলার তিন ডাকাত সদস্য গ্রেপ্তার। আনোয়ারায় পানিবন্দী মানুষের মাঝে আনোয়ারা ফাউন্ডেশনের ত্রানসামগ্রী বিতরণ। আনোয়ারা উপজেলা গ্রাম ডাঃ কল্যাণ সমিতির বার্ষিক সাধারন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বানবাসী ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ত্রান বিতরন করছেন এমপি সরওয়ার জামাল নিজাম। আনোয়ারা উপজেলায় একদিনেই এক নারী ও এক পুরুষের মরদেহ উদ্ধার।

বাংলার সংস্কৃতি ও নববর্ষ নিয়ে এক অসাধারণ তথ্য লিখেছেন।

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩১৮ বার পড়া হয়েছে

ডাঃ রাজীব গুহ এমবিবিএস বিসিএস এফসিপিএস
(জেনারেল ল্যাপারোস্কপিক সার্জন)

সবজির নাম নাকি বুগুলি,আলেয়া,ডুমুর কাট্টুইস,কিংবা তারা! কি বিচিত্র নামকরা এরা। বছরের শেষপ্রান্তে উনাদের দেখা মেলে।
চৈত্র সংক্রান্তি, পহেলা বৈশাখ কিংবা নববর্ষারম্ভ আমার একান্ত শৈশবের ছোয়ায় এখনো স্মৃতিতে চিরভাস্বর,চিরঅম্লান,চিরঅটুট হয়ে আছে।পঞ্জিকামতে গতকাল চৈত্রসংক্রান্তির মধ্য দিয়ে ঋতুরাজ বসন্তকে পত্রপাঠ বিদায় দিলাম।
চৈত্রসংক্রান্তিকে আমি অবশ্য আদর করে পাচনসংক্রান্তি নাম দিয়েছি।একে ছাতুসংক্রান্তি নামেও ডাকা যেতে পারে।কারন এই দিনে ছাতুকে নকশাকাটা ছাচে ফেলে বাহারী রকমের ছাতুর লন বা নাড়ু বানানো হয়।কি যে অমৃত সেই লন বলে বুঝাতে পারবোনা!এছাড়া নারকেলের পুর দিয়ে তৈরি সন্দেশ,,ভাজা শিম- কুমড়ার বিচি, বুট বাদাম মুড়ি মুড়কির সমন্বয়ে তৈরি আটকড়ই এই চৈত্রসংক্রান্তির অন্যতম উল্লেখযোগ্য অংশ।তবে সবকিছু ছাপিয়ে আমার কাছে “আঠারো তরকারি” বা ঘন্ট বা পাঁচন সবচেয়ে আকর্ষনীয়।এমনিতেই হিন্দুবাড়ির নিরামিষ তরকারীর নাকি আলাদা সুনাম আছে, আর সেটা যদি হয় পাঁচন, তাহলে তো আর কথাই নেই।
প্রতীক্ষার পর বছরশেষের সাঝবেলাতে বসে থাকি কবে মায়ের হাতের অমৃতসম এই পাঁচনের দেখা মিলবে এই আশায়।এটার রন্ধনপ্রনালীও একটা শিল্পকর্মের চেয়ে কোন অংশেই কম না।তবে রান্না যতটা না কঠিন, তরিতরকারীর জোগান দেয়া তার চাইতে বেশি কঠিন।
বাসায় কাজের বুয়াটা অনেকদিন হলো আসেনা।তার অনুপস্থিতিতে ঘর আর ঘর নেই বললেই চলে।চৈত্র সংক্রান্তির বিশেষ দিনে তার হঠাৎ আগমন যেন মরুভুমির বুকে প্রান ফিরে এলো।আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে আঠারো তরকারীর সন্ধানে বাজারের উদ্দেশ্যে ছুটলাম।আঠারোটা সবজি আইটেম মিলানো যে সে ব্যাপার না।আমার অবশ্য বাজারে গেলে মানুষ দেখতে ইচ্ছে করে।হরেক রকম মানুষ।তাদের কেনাকাটার স্টাইলে আমি বিমুগ্ধ হয়।আকাশ সমান মুগ্ধতা নিয়ে ভিড় ঠেলে হাটতে থাকি।মানুষের ভিড়ে নিজেকে হারিয়ে ফেলার মজাই আলাদা।নিজেকে হারানোর আনন্দে পুলকিত হই। এই খেলাটা বেশিক্ষন ধরে খেলা হয়না।বাসায় ফেরার তাড়া থাকে। তাড়াহুড়ায় কমদামী সবজিকে বেশি দামে কিনে ফেলি।
গতকাল ছিলো চৈত্র সংক্রান্তি।একসময় প্রতিটি ঋতুর শেষে একেকটা সংক্রান্তি পালিত হলেও এখন সময়ের ব্যবধানে এই একমাত্র চৈত্রবাবাই টিকে আছে।এই দিনটিতে দইচিড়া,শাকান্ন,,নিরামিষ খাওয়ার রেয়াজ আছে।
আজ পহেলা বৈশাখ।যদিও গতকালই মহাজাগতিক,অসাম্প্রদায়িক এই পহেলা বৈশাখ উৎসবের আমেজে উৎযাপিত হয়েছে।হান্ড্রেড পারসেন্ট বাঙ্গালিয়ানা সমৃদ্ধ কোন উৎসবকে বিশ্বদরবারে পরিচিত করতে চাইলে এই উৎসবটি সর্বোচ্চ মার্কস নিয়ে অগ্রাধিকার পাবে।বৈদগ্ধ্য বাঙ্গালীর উৎযাপন যেন অনন্তকাল ধরে ঘরে ঘরে প্রচলিত থাকুক।এটা আসলে নববর্ষারম্ভই নয়,বর্ষবরনের আড়ালে মানুষকেই নবআনন্দে বরন করার প্রস্তুতি।
“আমি মানুষের পায়ের কাছে বিমুগ্ধ এক কুকুর হয়ে বসে থাকি…….”

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2025 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102