সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ০৫:১৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আনোয়ারায় কিশোরগ্যাং ও অসামাজিক কার্যকলাপে অতিষ্ঠ, এলাকাবাসীর সংবাদ সন্মেলন আনোয়ারায় নেশাদ্রব্য খাওয়ায়ে অটোরিকশা চালককে হত্যা,আটক দুই ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক প্রকৃতি রঞ্জন দত্তের মৃত্যুতে আনোয়ারা ফাউন্ডেশনের শোক প্রকাশ কানু মাঝির পাড়ায় গঙ্গা পূজা অনুষ্ঠিত শিক্ষা, ক্রীড়া ও সমাজসেবার এক উজ্জ্বল নাম প্রকৃতি রঞ্জন দত্ত’ আজ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রকৃতি রঞ্জন দত্তের নাগরিক শোকসভা আনোয়ারা উপজেলায় এক তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগ,চার জনের বিরুদ্ধে মামলা। সেই ১৯৯১ এর ২৯শে এপ্রিল,প্রকৃতির নিষ্ঠুর ধ্বংসলীলার দৃশ্য এখনো কাঁদায়। চাতরী চৌমুহনী সড়কে সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় জনদূর্ভোগের শেষ নেই। মধ্যম গহিরায় গঙ্গা পূজা অনুষ্ঠিত

সেই ১৯৯১ এর ২৯শে এপ্রিল,প্রকৃতির নিষ্ঠুর ধ্বংসলীলার দৃশ্য এখনো কাঁদায়।

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪২ বার পড়া হয়েছে

আনোয়ারা ( চট্টগ্রাম ) প্রতিনিধি 

 আজ সেই ১৯৯১ এর ভয়াল ২৯ এপ্রিল। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক প্রাকৃতিক ধ্বংসলীলার ভয়ানক দিন।সেই দিনের অন্ধকার কালোরাত্রীর প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে লন্ডভন্ড করে দিয়েছিল দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় পুরো উপকূল এলাকা।
‎চট্টগ্রামসহ দেশের উপকূলীয় জেলা-উপজেলার অসংখ্য ঘরবাড়ী অগনিত মানুষ ও গরু মহিষ ছাগল হাঁস মুরগীসহ সেই প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণ হারিয়েছে। যে নিদারুন দৃশ্য লাশের পরে লাশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে ছিল সর্বত্র। ধ্বংস্তূপে পরিণত হয়েছিল বিস্তীর্ণ উপকূলীয় অঞ্চল। বিশ্ববাসী বাকরুদ্ধ হয়ে সেদিন প্রত্যক্ষ করেছিল প্রকৃতির নিষ্ঠুর এবং জঘন্য ধ্বংসযজ্ঞ। সেই প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাসের তিন দশক পেরিয়ে গেলেও, সেই বিভীষিকাময় স্মৃতি আজও কাঁদায় চট্টগ্রামের উপকূলীয় অঞ্চলবাসিদের।
‎সেই সময়ে স্বজন হারানোর আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছিল চারদিকের পরিবেশ। এ দেশের মানুষ এর আগে আর কখনও প্রাকৃতিক দুর্যোগের এত যান মালের ক্ষয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়নি।
পরদিন সারা বিশ্বের মানুষ অবাকবিস্ময়ে তাকিয়ে দেখেছিলেন ধ্বংসলীলার দৃশ্য। আর্তনাদে কেঁপে উঠেছিল বিশ্ব-বিবেক। সরকারিভাবে বলা হয়, এই দুর্যোগের ১ লাখ ৩৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৪৫ হাজার মানুষ প্রাণ হারায় । তবে বেসরকারিভাবে প্রকৃতির এ ধ্বংসযজ্ঞে মৃতের সংখ্যা আরো বেশি বলে জানা যায়।
‎এই ঘূর্ণিঝড়ে চট্টগ্রামের বাঁশখালী, আনোয়ারা, পতেঙ্গা, সন্দ্বীপ, সীতাকুণ্ড, মিরসরাই, কক্সবাজার সদর, চকরিয়া, পেকুয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী ও হাতিয়াসহ পুরো উপকূলজুড়েই মানুষের নিথরদেহ বন্যার পানিতে এদিক সেদিক ভাসতেছে। উপকূলীয় এলাকাগুলোতে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ না হওয়ায়, সামান্য ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনাতেও স্থানীয়রা আতঙ্কে দিন কাটান।
‎ওই ঘূর্ণিঝড়ে আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের বাসিন্দা শওকত আরা বেগম (৬৬) হারিয়েছেন তার তিন ছেলেমেয়েসহ দশ স্বজনকে। এই রকম অসংখ্য স্বজন হারা মানুষের আর্তনাদে বাংলার আকাশ বাতাস ভারী হয়ে গিয়েছিল যাহা প্রকাশ করার ভাষা ছিলনা। ঘূর্ণিঝড়ে তছনছ করে দিয়েছিল গৃহবধূ শওকত আরার পুরো সংসার। তিন দশকের বেশি সময় ধরে সেই দুর্বিষহ স্মৃতি নিয়ে দিন কাটে তার। আজও খুঁজে পাননি ঘূর্ণিঝড়ে হারিয়ে যাওয়া তিন সন্তানের লাশ।
‎তিনি বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় শব্দটি শুনলেই আমার বুকে কম্পন শুরু হয়। এই বুঝি আবারও সব কেড়ে নিবে সর্বনাশা ঘূর্ণিঝড়। ছেলেমেয়েদের বাঁচাতে গিয়ে আমিও পানিতে ডুবতে বসেছিলাম। তখন স্বজনদের কেউ একজন আমাকে বাঁচিয়েছে।’
‎সেদিন চোখের সামনে নিজের ভাই ও নিজ গ্রামের ১৫০ মানুষের মৃত্যুর কথা স্মরণ করে ৭৫ বছর বয়সী আনোয়ারা উপজেলার রায়পুরের আবুল কাশেম জানান, কারো কল্পনায়ও ছিল না যে, এমন কিছু ঘটবে। ঘূর্ণিঝড় শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবাই আমার বাড়িতে আশ্রয় নেয়। কিন্তু মধ্যরাতে বাতাসের বেগে আমার ঘর ভেঙে যায়। সেখানেই চাপা পড়ে মারা যায় প্রায় এক’শ মানুষ। আমার ছোট ভাইসহ তার পুরো পরিবারও সেদিন মারা যায়।
‎১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে নিহতের সংখ্যা বিচারে পৃথিবীর ভয়াবহতম ঘূর্ণিঝড়গুলোর মধ্যে অন্যতম। ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল মধ্যরাতে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত কক্সবাজার-চট্টগ্রাম উপকূলে আঘাত হানা এ ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড়টিতে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ২৫০ কিমি (১৫৫ মাইল/ঘণ্টা)। ঘূর্ণিঝড় ও এর প্রভাবে সৃষ্ট ৬ মিটার (২০ ফুট) উঁচু জলোচ্ছ্বাসে সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ৩৮ হাজার ২৪২ জন। তবে বেসরকারি হিসাবে এর সংখ্যা আরও বেশি।
‎ঘূর্ণিঝড়ে মানুষ ছাড়াও মারা যায় প্রায় ২০ লাখ গবাদিপশু। গৃহহারা হয় হাজার হাজার পরিবার। আর্থিক ক্ষতি হয়েছিল ২৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি সম্পদ। প্রায় এক কোটি মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছিল।
‎১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস—যা ইতিহাসে “মহাপ্রলয়” নামে পরিচিত, তার ভয়াবহতা চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপকূলের মানুষ আজও ভুলে যায়নি। ১৯৯১ সালের সেই রাতে ২০ ফুটেরও বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে আনোয়ারা, বাঁশখালী ও পটিয়া উপকূলীয় এলাকা পুরোপুরি তলিয়ে গিয়েছিল।
‎কেবল এই তিন উপজেলাতেই প্রায় ৪২ হাজার মানুষের লাশ পাওয়া গিয়েছিল। ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, গবাদি পশু এবং উপকূলের সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকা মুহূর্তেই লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছিল।
তিন দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ১৯৯১ সালের সেই ভয়াল স্মৃতির ক্ষত বিক্ষত স্মৃতি এখনো উপকূলের মানুষের মনে নাড়া দেয়। আনোয়ারার উপকূলবর্তী মানুষ এখনো  টেকসই বেড়িবাঁধের অভাবে মারাত্মক ঝুঁকিতে বসবাস করছে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2025 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102