আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
কবিয়াল সম্রাট রমেশ শীল তদানিন্তন কবিয়াল এবং আধ্যাত্মিক মাইজভান্ডারী সুফি ভাববাদী মরমী সংগীত জগতের সাধক পুরুষ ছিলেন।
সোমবার(৬ এপ্রিল) বাংলার বরেণ্য কবিয়াল রমেশ শীলের ৫৯তম মৃত্যুবার্ষিকী অনুষ্ঠান আজ বোয়ালখালী উপজেলার গোমদন্ডী গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে, মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা,সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কবিগানের আয়োজন করা হয়েছে, আয়োজক হিসেবে মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপন পরিষদ সকল রমেশ ভক্তদের উক্ত অনুষ্ঠানে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। কিংবদন্তি এই কবিয়াল,গীতিকার,সুরকার যার সুরেলা কন্ঠ কবির ছন্দ মালসি হঠাৎ প্রশ্ন হঠাৎ উত্তর, একপদী টপ্পা সত্যি দেশ বিদেশের দর্শকদের মনাহরন করে রিদয়ে স্হান করে নিয়েছেন,এবং বাংলার লোকসংস্কৃতির লোকসংগীতকে তাহার আধ্যাত্মিক সাধনার ফলে অসাধারণ প্রতিভা এবং মেধার প্রতিফলনে গীত রচনা দক্ষ সৃজনশীলতার মাধ্যমে দেশ এবং বিদেশের মাটিতেও পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।তাঁহার ধ্যান ধারনায় বিশেষকরে মা মাটি ও মানুষের কথাই প্রাধান্য পেয়েছে। তাঁহার এই অভাবনীয় লিখনীতে বাংলার সংগীতাঙ্গনে অবিস্মরণীয় হয়ে ছিলেন ,আছেন,থাকবেন।তাঁহার এই সৃষ্টিশীলতার স্বীকৃতি স্বরুপ তিনি মরণোত্তর একুশে পদক সহ সরকারী বেশরকারী আরো অসংখ্য অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। চট্টগ্রামের মাইজভান্ডারের ভান্ডারী আধ্যাত্মিক সুফি ভাববাদী দর্শনকে অত্যান্ত সাবলীল ভাষায় প্রচার প্রসার করেছেন,রমেশ শীলের সৃষ্টি সাধনা তুলনা করা যায়না। তাঁর এই অনন্য সংগীতের মাধ্যমে বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে তাহার আমরনে প্রত্যেক আন্দোলনে তাঁহার লিখনী এবং সংগীতকে যুদ্ধার মত করে কাজ করিয়ে গেছেন। বাংলার আকাশ বাতাস চন্দ্র সূর্য মাটি জল বৃক্ষ তরুলতা যতদিন থাকিবে একজন কালজয়ী মানুষ হিসেবে ততদিন তাঁর সৃষ্টিকর্মের মাধ্যমে বেঁচে থাকিবেন।
কবিয়ার রমেশ শীল ১৮৭৭ সালে পিতা চন্ডী চরণ শীলের ঘরে বোয়ালখালী উপজেলার গোমদন্ডী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন, ৬ই এপ্রিল ১৯৬৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।